ঢাকা , মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ , ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইবিতে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে সাফল্য’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৮-১১ ১০:৩৫:০১
ইবিতে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে সাফল্য’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত ইবিতে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে সাফল্য’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত
ইবি প্রতিনিধি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি)



আইইইই এর উদ্যোগে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে সাফল্যের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১০ আগষ্ট)  দুপুর সাড়ে ১২ টায় ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার্স (আইইইই) এর উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে সিনা বিজ্ঞান ভবনে ১০২ নাম্বার কক্ষে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে সাকিফ মাহমুদ ফয়সালের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড.এ কে এম মতিনুর রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন, অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী, ইঞ্জিনিয়ার ও টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড.  মো. আতিকুর রহমান।



টেকনিক্যাল সেশন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইসিটি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. তারেক হাসান আল মাহমুদ। মূলবক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জার্মানি টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অফ অ্যাপ্লাইড সায়েন্সেস মিটেলহেসেনের (THM) অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার রহমতুল্লাহ খন্দকার। এছাড়াও সেমিনারে ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণ করেছেন। সেমিনারের মূলবক্তা অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার রহমতুল্লাহ খন্দকার বলেন, “যদি AI সব করে দেয়, তাহলে আমরা আমাদের ভ্যালু হারিয়ে ফেলব। তখন প্রশ্ন আসবে—আমরা কেন বেঁচে আছি? এজন্য এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করা যাবে না। এটি বুদ্ধিমত্তার সাথে ব্যবহার করতে হবে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এআই সাক্ষরতা শেখানো উচিত—এআই কী, কীভাবে ব্যবহার করা উচিত বা উচিত নয়, এবং কী চেক করা প্রয়োজন। উদাহরণস্বরূপ, প্লেজিয়ারিজম বা জলচুরির বিষয়টা।

এআই মাত্র এক মিনিটের মধ্যে পেপার লিখে দেবে, কিন্তু কেউ দেখে বলতে পারবে না যে এটি এআই লিখেছে।” তিনি বলেন, “বর্তমানে শিক্ষার্থীদের ক্রিটিক্যাল থিংকিং কমে যাচ্ছে। তবে এটি শুধু মানুষের দোষ নয়; কোম্পানিগুলো এমন দ্রুত আউটপুট আশা করছে,  তাই এই সমস্যা তৈরি হচ্ছে। আগে একটি রিসার্চ প্রপোজাল লিখতে এক মাস সময় দিতাম, এখন সময় দিই একদিন—কারণ এআই আমাকে সাহায্য করছে।” তিনি আরও বলেন, “শিক্ষকদের লেসন প্ল্যান তৈরি, স্লাইড ও টিচিং মেটেরিয়াল বানানো এবং শিক্ষার্থীদের অ্যাসেস করার জন্য বিভিন্ন এআই টুল রয়েছে। পাশাপাশি নির্দেশনা তৈরি, স্টুডেন্ট সাপোর্ট এবং তাদের শেখার অগ্রগতি ট্র্যাক করার ক্ষেত্রেও টুলগুলো বেশ কার্যকর। গবেষণায় এআই অনেক সহায়তা করতে পারে। আগে লিটারেচার রিভিউ করতে প্রায় ছয় মাস লেগে যেত, কিন্তু এখন এআই বিভিন্ন গবেষণাপত্রের মধ্যে সম্পর্ক যুক্ত করে দেয়। এছাড়া রাইটিং, এডিটিং, ডাটা অ্যানালাইসিস, কোডিং, ভিজ্যুয়ালাইজেশন, প্রেজেন্টেশন এবং অনুবাদের ক্ষেত্রে এআই খুব চমৎকার কাজ করে। গবেষকদের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এআই সহায়তা করতে পারে।”


উল্লেখ্য, আইইইই (IEEE) হলো ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার্স। এটি বিশ্বের বৃহত্তম প্রযুক্তিগত পেশাদার সংস্থা, যা মানবজাতির কল্যাণে প্রযুক্তির অগ্রগতি ও উদ্ভাবনে কাজ করে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : lifestyledesign847@gmail.com

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ